
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় নাশকতা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকের অপসারণ দাবি করেছে বিএনপির একটি অংশ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়কের তুষভান্ডার বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ দাবি জানান।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও লালমনিরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। অপর গ্রুপটি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
গত ৬ জুন রাতে রংপুর শহর থেকে নাশকতা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি, আদিতমারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর থেকেই বিষয়টি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়া হলে বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম ওসিকে ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান। পুলিশ জানায়, তিনি মামলার আসামি হওয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপরই ওসির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে একই মামলায় আওয়ামী লীগের আরেক কর্মী রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে নিয়ে বিএনপির একাংশ দাবি করে, তিনি স্থানীয় মৎস্যজীবী দলের নেতা। তবে এ দাবিকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে মৎস্যজীবী দলের স্থানীয় নেতৃত্ব।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির একটি অংশ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে, “প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের টাকার বিনিময়ে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, আর আমাদের সংগঠনের কর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে”—এমন অভিযোগ তুলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ওসির অপসারণ দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, “ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন এবং একটি ‘মাদক ও অনিয়মের রাজ্য’ তৈরি হয়েছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “নাশকতা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কার আত্মীয় কে—এটা আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা–সমালোচনা।
মন্তব্য করুন