সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষের মাঝে লবণ সহনশীল বীজ, জৈব সার, জিও ব্যাগ ও পানির ঝাঁঝরি বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ১২টায় ৭১নং বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন অ্যাকশন কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহযোগিতায় ‘জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি গ্রামে মোট ২০১৫টি পরিবার নিয়ে এই প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর মাঝে ১০ ধরনের লবণ সহনশীল বীজ, ৪০ কেজি জৈব সার, ৫টি জিও ব্যাগ এবং ১টি পানির ঝাঁঝরি বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত বীজের মধ্যে রয়েছে ঢেড়স, ডাটা শাক, পুঁই শাক, ঝিঁয়া, ধন্দুল, শসা, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া ও কলমী শাকসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, প্রজেক্ট ম্যানেজার মিল্টন বাড়ৈ, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাস এবং কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটরবৃন্দ।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, গাবুরা এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি। এ অবস্থায় অভিযোজন কৃষি চর্চা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ফেইথ ইন অ্যাকশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, গাবুরায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক ও অভিযোজন উপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। লবণ সহনশীল বীজ ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথি কৃষিবিদ ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের বিতরণকৃত উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। এসব উপকরণ কাজে লাগিয়ে জলবায়ু সহনশীল কৃষি চর্চার মাধ্যমে সবজি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।
ফেইথ ইন অ্যাকশন জানিয়েছে, প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা এবং টেকসই কৃষি উৎপাদন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন