কুষ্টিয়া প্রতিনিধি,
৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ইবির শিক্ষিকা রুনা হত্যা: ময়নাতদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

কুষ্টিয়ার Islamic University, Bangladesh-এর (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় ময়নাতদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নিহত শিক্ষিকার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ২০টির বেশি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতার দিকটি স্পষ্ট করে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে Kushtia General Hospital মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসকেরা জানান, নিহত আসমা সাদিয়া রুনার গলার নিচে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং গলায় মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই আঘাতের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তার বুক, পেট, হাত ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টির বেশি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম। তাকে সহায়তা করেন চিকিৎসক ডা. রুমন রহমান ও ডা. সুমাইয়া। আরএমও হোসেন ইমাম জানান, আঘাতের ধরন দেখে মনে হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের সময় ধস্তাধস্তি হয়েছিল। নিহতের হাতেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, যেভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে তা ঘাতকের তীব্র ক্ষোভ ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে।

আরো পড়ুন...  দৌলতপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত

এদিকে নিহত শিক্ষিকার স্বজনরা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান Islamic University Police Station-এ একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যামসুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

নিহতের স্বামীর ভাই শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। তার দাবি, বিভাগের কিছু আর্থিক বিষয় নিয়ে ফজলুর রহমানের সঙ্গে রুনার দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। বিভিন্ন সময়ে তিনি রুনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনেকেই জানতেন এবং এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছিল। শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, “এত বড় ঘটনা কারও ইন্ধন ছাড়া ঘটতে পারে না। পরিকল্পিতভাবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারেন।”

ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, নিহত শিক্ষিকার স্বামী চারজনকে আসামি করে একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক ইউনিট কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

আরো পড়ুন...  শরণখোলায় হামলায় ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, আটক ৪

মর্গের সামনে নিহত শিক্ষিকার স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তারা জানান, রুনার চারটি ছোট সন্তান রয়েছে—তিন মেয়ে ও একটি ছেলে। এর মধ্যে দুই শিশু এখনও বুঝতে পারেনি যে তাদের মা আর বেঁচে নেই। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র দেড় বছর।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হন। একই ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান গুরুতর আহত হন এবং তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উদ্বেগ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১০

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১১

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১২

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৩

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

১৪

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ

১৫

গৌরীপুরে নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬

নলডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

সেনবাগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

১৮

গৌরীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

১৯

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

২০