সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম কলকলিয়া–চন্ডিডহর সড়ক এবং জগদীশপুর সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার কাজ অসম্পূর্ণ পড়ে থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি, যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্ডিডহর খেয়াঘাট থেকে শুরু করে কলকলিয়া এলাকা পর্যন্ত সড়কের বেশিরভাগ অংশই বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গলাখাল সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ কয়েক মাস আগে শুরু হলেও তা মাঝপথেই থেমে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত খনন করে ইট ও ইটের খোয়া ফেলে আংশিকভাবে সমান করা হলেও পরবর্তী কাজ আর এগোয়নি। একইভাবে জগদীশপুর সেতুর ফাইলিংয়ের জন্য কিছু পিলার নির্মাণ করা হলেও কাজ সম্পূর্ণ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়।
এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কাদাময় ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, যা পথচারী, যানবাহন চালক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসম্পূর্ণ কাজ ফেলে রাখার কারণে পরিস্থিতি আগের চেয়েও বেশি খারাপ হয়েছে।
কলকলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আঞ্জুর আলী বলেন, “কয়েক মাস আগে সেতুর কাজ শুরু করে কিছু পাকা পিলার তৈরি করা হয়। পরে শ্রমিকরা হঠাৎ করেই চলে যায়। আবার কয়েক মাস পর এসে কিছু কাজ করে পুনরায় কাজ ফেলে রেখে চলে যায়। আমরা ঠিকাদারকে চিনি না, ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা জরুরি।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুনেদ আহমদ বলেন, “এই সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ও সেতুর কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। তারা দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ-৩ আসন-এর নির্বাচিত সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, এই সড়কটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, বরং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দ্রুত কাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করা এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন