মিশরের রাজধানী কায়রো-তে প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে “মারকায সওতুল ইসলাম”-এর উদ্যোগে এক বরকতময় ইফতার মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৭ রমজান) কায়রোর নসর সিটির তাব্বা এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির সহকারী পরিচালক মাওলানা মুহাম্মাদ হাসান জামিল আজহারীর বাসভবনে উৎসবমুখর পরিবেশে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মারকায সওতুল ইসলাম-এর পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন আজহারীসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এবং আল-আযহার ইউনিভার্সিটি-র বিভিন্ন অনুষদে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রবাস জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদেশের মাটিতে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ অটুট রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ আল-আযহারে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে “মারকায সওতুল ইসলাম” যে বন্ধন ও সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, তা প্রশংসনীয়।
ইফতারের আগ মুহূর্তে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশেষভাবে আল-আযহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব উদ্দীন আজহারী।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং মানসিক প্রশান্তি প্রদানই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। উপস্থিত সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিলটি এক আন্তরিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন কায়রো, মিশরের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান আজহারীসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে আল-আযহার ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশিপ নিয়ে আগত নতুন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মারকায সওতুল ইসলাম-এর সহকারী শিক্ষক রাশেদুল হক আরশাদ। ইফতার গ্রহণ ও খাবার শেষে সবাই মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে নতুন শিক্ষার্থীদের ফুল ও মূল্যবান কিতাব উপহার প্রদান করা হয়। সবশেষে দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সাল থেকে “মারকায সওতুল ইসলাম” অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রায় ৯৭ জন শিক্ষার্থী বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ লাভ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে চান, তাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠান নির্ভরযোগ্য দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, আরবি ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং ইসলামের সঠিক বাণী ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন