খুবি প্রতিনিধি
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

খুবির অপরাজিতা হলের পানিতে লাল পোকার উপদ্রব, নেই স্থায়ী সমাধান

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) অপরাজিতা আবাসিক হলের পানিতে লাল পোকার উপদ্রব দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যাপ খুললেই পানির সঙ্গে সুতোলি পোকার মতো লাল রঙের পোকা ও বিভিন্ন ধরনের ময়লা বেরিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন হলের আবাসিক ছাত্রীরা। শুধু গোসলের পানিতেই নয়, মাঝে মাঝে খাবার পানিতেও ময়লার উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আবাসিক হলের তুলনায় অপরাজিতা হলে এই সমস্যার প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন একই পানি দিয়ে গোসল, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য কাজ করতে হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই পানি ব্যবহার করছেন। যদিও খাবার পানির জন্য আলাদা ট্যাংকের ব্যবস্থা রয়েছে, তবুও সেখানেও মাঝে মাঝে ময়লা পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেকে বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করলেও সবার পক্ষে তা নিয়মিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

হলের কয়েকজন আবাসিক ছাত্রী জানান, পানিতে পোকার উপস্থিতির কারণে তারা সবসময় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। কেউ কেউ ছাঁকনি ব্যবহার করে পানি ছেঁকে নেওয়ার চেষ্টা করলেও সব সময় তা সম্ভব হয় না। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।

আরো পড়ুন...  শিক্ষিকার গলা কেটে হত্যার পর নিজের গলায় ছুরি চালালেন কর্মচারী

এ বিষয়ে অপরাজিতা হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহযোগী প্রভোস্ট অধ্যাপক শারমিন কবির বলেন, হলে সাব-মার্সেবল পাম্পের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়, ফলে পানির উৎসে পোকা থাকার সম্ভাবনা খুব কম। তবে ছাদে অবস্থিত পানির ট্যাংক নিয়মিত পরিষ্কার না করা হলে সেখানে পোকা জন্মাতে পারে। তিনি জানান, খাবার পানির ক্ষেত্রে ফিল্টারিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও গোসলের পানির জন্য ফিল্টারিং ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হয় না।

তিনি আরও বলেন, গোসলের পানির ট্যাংক প্রতিদিন পরিষ্কার করা না গেলেও সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিষ্কার করার নির্দেশনা রয়েছে। স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন পানির লাইন স্থাপন বা বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য বড় বাজেট প্রয়োজন, যা শুধু হল কর্তৃপক্ষের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া অধিকাংশ পানির পাইপ ভবনের নিচ দিয়ে স্থাপন করা থাকায় সেগুলো পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। ভবিষ্যতে সুযোগ থাকলে নতুন পানির লাইন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

এদিকে, অপরাজিতা হলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্টাফ অঞ্জলী দেবী জানান, গোসলের পানির ট্যাংক মাসে দুইবার, খাবার পানির ট্যাংক মাসে চারবার এবং খাবার পানির ফিল্টার মাসে তিনবার পরিষ্কার করা হয়।

আরো পড়ুন...  খুবিতে নাগরিক সচেতনতা ও তথ্য যাচাই শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

তবে নিয়মিত পরিষ্কারের দাবি থাকলেও বাস্তবে পানিতে পোকার উপদ্রব কমছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রত্যাশা করছেন অপরাজিতা হলের আবাসিক ছাত্রীরা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১০

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১১

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১২

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৩

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

১৪

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ

১৫

গৌরীপুরে নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬

নলডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

সেনবাগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

১৮

গৌরীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

১৯

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

২০