বাগেরহাট সদর উপজেলার চুলকাঠি বাজারে অবস্থিত পলাশ কিন্ডার গার্টেনে উৎসবমুখর পরিবেশে ২৮তম বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
রোববার (১২ এপ্রিল) আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফকিরহাট সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসাইন ছায়েদীন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক মো. আজহার উদ্দিন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুলকাঠি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বিএম আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক কামরুজ্জামান শিমুল, খানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাবুল ফকির এবং রাখালগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফকির আল মামুন টিপু। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিলজংগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শেখ নূর মোহাম্মদ, এসআরএম কিন্ডার গার্টেনের পরিচালক দুলালী কর্মকারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বক্তারা বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলে।
এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) দিনব্যাপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দৌড়, লাফ, আবৃত্তি, গান ও নৃত্যসহ নানা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতাগুলো ছিল প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন, যা উপস্থিত অভিভাবক ও দর্শকদেরও মুগ্ধ করে।
পরে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শিশুদের প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়লেও তাদের শারীরিক ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুরা সুস্থ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
শেষে আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতার জন্য আয়োজক কমিটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
মন্তব্য করুন