রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় জীবিত স্ত্রীকে মৃত দাবি করে প্রতারণার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে আনসার ভিডিপির এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সংবাদ সম্মেলন করে স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, নির্যাতন ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে আইনি প্রতিকার দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত এমরান আলী বাগমারা উপজেলার আউচপাড়া ইউনিয়নের তকিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে বগুড়ার শাজাহানপুরে আনসার ভিডিপি অফিসে কর্মরত। ভুক্তভোগী আছমা বেগম জানান, চাকরির সুবাদে বগুড়া সদরে তাদের পরিচয় হয়। সে সময় এমরান আলী নিজেকে অবিবাহিত বা প্রথম স্ত্রী মৃত বলে পরিচয় দেন এবং ধীরে ধীরে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
পরবর্তীতে প্রায় দুই বছর আগে রাজশাহী নোটারি পাবলিকে এফিডেভিটের মাধ্যমে এবং হাটগাঙ্গোপাড়া কাজী অফিসে তিন লক্ষ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা বগুড়া সদরে ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই এমরান আলী বিভিন্ন কৌশলে আছমা বেগমের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করতে থাকেন। তার বেতনসহ স্বর্ণ বিক্রি করে প্রায় সাত লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার নামে একটি এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েও আত্মসাৎ করেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
আছমা বেগম আরও জানান, ঈদের কয়েকদিন আগে হঠাৎ করেই এমরান আলী নিখোঁজ হয়ে যান। পরে তার সন্ধানে তিনি বাগমারার গ্রামের বাড়িতে গেলে জানতে পারেন, এমরানের প্রথম স্ত্রী জীবিত এবং তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি স্বামীর বাড়িতে গিয়ে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত স্বামী, প্রথম স্ত্রী (সতীন) এবং শ্বশুর-শাশুড়ির হাতে মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় তিনি বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পরবর্তীতে বাগমারা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে তার জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছে এবং এখন তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের প্রতারণা ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ জরুরি। পাশাপাশি নারীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
মন্তব্য করুন