বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, “জুলাই সনদ” একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল, যা তিনি ও তার দল পূর্ণভাবে সম্মান করেন। তবে এ সনদকে কেন্দ্র করে কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ভোলা শহরের উকিল পাড়ায় শান্ত নীড় প্রাঙ্গণে আয়োজিত একটি দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এই আয়োজনটি তার বাবা, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যারিস্টার পার্থ বলেন, “আমরা জুলাই সনদকে সম্মান করি এবং এর প্রতিটি দফাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখি। একই সঙ্গে আমরা সংবিধানকেও সম্মান করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এই সনদকে ঘিরে কিছু রাজনৈতিক পক্ষ এমন বক্তব্য দিচ্ছে, যাতে মনে হচ্ছে সরকার ও বিরোধী দলকে ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিরোধী দল থেকে এমন বক্তব্য আসছে যেখানে বলা হচ্ছে তারা এটি মানে না বা এটি প্রতারণামূলক। কিন্তু ‘প্রতারণা’ শব্দটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংবেদনশীল। আমি মনে করি, রাজনৈতিক পরিসরে এমন শব্দ ব্যবহারের আগে আরও সতর্ক হওয়া উচিত। এ ধরনের বক্তব্য থেকে সরে এসে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন একজন দূরদর্শী প্রশাসক ও জনবান্ধব রাজনৈতিক নেতা। তাঁর আদর্শ আমাদের রাজনীতিতে এখনও প্রাসঙ্গিক।”
মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে ভোলা জেলার প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মরহুমের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, ভোলা জেলা বিএনপি, বিজেপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং শেষে উপস্থিত অতিথিরা মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা করেন।
মন্তব্য করুন