বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা-এর প্রবীণ বিএনপি নেতা আলী হায়দারকে সম্ভাব্য পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দেখতে চায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে এ পদে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলী হায়দার ১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি, আন্দোলন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের সময় তিনি একজন সাহসী ছাত্রনেতা হিসেবে আলোচনায় আসেন।
ওই সময় ঢাকার মহাখালী এলাকায় আন্দোলন চলাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি বাম পায়ের হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। জানা যায়, প্রায় তিন মাস তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। আন্দোলন-সংগ্রামে তার এই আত্মত্যাগ এখনো স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে ধীরে ধীরে তিনি মূল দলে সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল-এর আলীকদম উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখেন।
২০০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আলীকদম উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে তিনি বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। জানা যায়, ওই নির্বাচনে মোট ১০৭ ভোটের মধ্যে ১০৩ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হন। তবে তৎকালীন বান্দরবান জেলা পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিংয়ের বিরোধিতার কারণে তাকে ওই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন।
স্থানীয়দের মতে, ১৯৯৩ সালে জেলা বিএনপির একটি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন বাতিলের দাবি এবং সাচিং প্রু জেরির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন দলীয় গ্রুপিং রাজনীতির শিকার হন। এরপরও তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাননি; বরং তৃণমূল পর্যায়ে দলের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন।
আলীকদম উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও অবদানের মূল্যায়ন হিসেবে সম্ভাব্য বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ-এ আলী হায়দারকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করবে। তারা মনে করেন, দায়িত্ব পেলে তিনি এলাকার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন