জামাল উদ্দিন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি,
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

টেকনাফে সাংবাদিক ফরিদুলের ৬ মামলা ঝুলে, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস-এর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ছয়টি ‘সাজানো’ মামলার বোঝা বহন করছেন সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে গভীর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

দৈনিক কক্সবাজার বাণী-এর সম্পাদক ও প্রকাশক ফরিদুল মোস্তফা খান অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালে তিনি “টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন টেকনাফের ওসি প্রদীপ” শিরোনামে একটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর থেকে তৎকালীন ওসি প্রদীপ ও কক্সবাজারের সাবেক পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের রোষানলে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা থেকে বিনা ওয়ারেন্টে আটক করে টেকনাফে নিয়ে আসা হয় এবং কয়েক দিন নির্যাতনের পর অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়।

ফরিদুল ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু মুক্তির পরও মামলাগুলোর প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো চার্জ গঠনের কারণে মামলাগুলো এখনো বিচার প্রক্রিয়ায় ঝুলে রয়েছে।

মামলার বিষয়ে প্রশাসনের কাছে বহুবার আবেদন করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফরিদুল ও তার পরিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি)সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেন। সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রপতি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে মামলার প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন...  কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

ফরিদুলের পাল্টা ফৌজদারি মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় পাঁচ বছর ধরে ঝুলে আছে। হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এছাড়া হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনও ৬ বছর ধরে নিষ্পত্তি হয়নি।

ফরিদুল জানান, পাসপোর্ট নবায়নকালে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স না দেওয়ার অজুহাত দিয়ে বাধা দিচ্ছে, যার কারণে পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মামলার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবার প্রায় নিঃস্ব হয়েছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। তারা দ্রুত প্রশাসনকে ছয়টি ‘সাজানো’ মামলার তদন্ত ও প্রত্যাহার, সিডিএমএস রেকর্ড সংশোধন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, পাসপোর্ট জটিলতা সমাধান এবং ফরিদুল ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তার পরিবার প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্ন তুলেছেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন তার দায়ের করা মামলাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১০

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১১

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১২

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৩

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

১৪

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ

১৫

গৌরীপুরে নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬

নলডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

সেনবাগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

১৮

গৌরীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

১৯

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

২০