নড়াইলে পেট্রোল পাম্পে তেল না পাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জেরে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেলে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে নড়াইল-যশোর মহাসড়কের তুলারামপুর এলাকায় মেসার্স তানভীর ফিলিং স্টেশনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ সর্দার (৩৩) ওই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ছিলেন। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে। আহত জিহাদুল ইসলামকে প্রথমে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. জসিম উদ্দিন জানান, রাতের দিকে একটি ট্রাক নিয়ে চালক মো. সুজাত পাম্পে তেল নিতে আসেন। কিন্তু ওই সময় পাম্পে তেল না থাকায় তাকে তেল দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে চালক সুজাতের সঙ্গে ম্যানেজার নাহিদ সর্দারের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাকচালক সুজাত নাহিদকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, “তোরে আজ ট্রাকের নিচে চাপা দিমু।” পরে তিনি ট্রাক নিয়ে ঘটনাস্থলেই অবস্থান করতে থাকেন।
পাম্পের কর্মচারী সোহান ইসলাম জানান, রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে নাহিদ সর্দার তার পরিচিত জিহাদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিছুক্ষণ পর ট্রাকচালক সুজাত তার ট্রাক ঘুরিয়ে তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পাম্পের দুই কর্মচারীও মোটরসাইকেলে তাদের পেছনে যান।
পরে কিছুদূর গিয়ে তারা দেখতে পান, ট্রাকচালক সুজাত নাহিদ ও জিহাদুলকে বহনকারী মোটরসাইকেলের ওপর ট্রাক তুলে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ সর্দারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন জিহাদুল ইসলাম। ঘটনার পর ট্রাকচালক দ্রুত ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান।
নিহতের চাচাতো ভাই মঞ্জুর সর্দার বলেন, “এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তেল না পেয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার পরই সে ট্রাকচাপা দিয়ে নাহিদকে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে তারা হতবাক। দ্রুত অভিযুক্ত ট্রাকচালককে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।
তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেকেন্দার আলী বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ট্রাকচালক ও ব্যবহৃত ট্রাকটি শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মন্তব্য করুন