ঝালকাঠির গাবখান নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া মাদরাসাছাত্র মো. আলিফের (১৫) মরদেহ তিনদিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের কিফাইতনগর এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।
নিহত আলিফ হবিগঞ্জের একটি মাদরাসার আলিম শ্রেণির ছাত্র। ঈদের পাঁচদিন আগে সে ঝালকাঠিতে তার নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটালেও শেষ পর্যন্ত সেই বেড়ানোই তার জীবনের শেষ সফর হয়ে দাঁড়ায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে ছোট ভাই ও খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে গাবখান নদীতে গোসল করতে নামে আলিফ। তবে সে সাঁতার জানত না। গোসলের একপর্যায়ে নদীর গভীর পানিতে চলে গিয়ে ডুবে যায় সে। সঙ্গে থাকা স্বজনরা তাকে খুঁজে না পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা দুই দিন নদীতে তল্লাশি চালিয়েও আলিফের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে।
অবশেষে নিখোঁজের তিনদিন পর সোমবার দুপুরে কিফাইতনগর এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা কাছে গিয়ে সেটি আলিফের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
আলিফের মৃত্যুর খবরে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, আলিফ শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে ছিল। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয়রা বলছেন, নদীতে গোসল করতে নামা শিশু-কিশোরদের প্রতি আরও বেশি নজরদারি ও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা সাঁতার জানে না, তাদের একা নদীতে নামতে দেওয়া উচিত নয়।
ছবির ক্যাপশন: ঝালকাঠির গাবখান নদীতে নিখোঁজের তিনদিন পর উদ্ধার হওয়া মাদরাসাছাত্র আলিফের মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি।
মন্তব্য করুন