পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর-২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণভাবে বিতরণ না করা, প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) উপজেলা কৃষি হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১০০ জন উপকারভোগীর মাঝে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলার জন্য মোট ৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও তার পুরোটা বিতরণ করা হয়নি। অবশিষ্ট ১ লাখ ১৩ হাজার টাকার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত অসহায় ও দুস্থ মানুষের পরিবর্তে স্বচ্ছল এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর শেখ দাবি করেন, তালিকাভুক্ত অনেকেই আর্থিকভাবে সচ্ছল ও কর্মক্ষম ব্যক্তি। অথচ প্রকৃত দরিদ্র ও অক্ষম ব্যক্তিরা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে, অনুষ্ঠানে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক ও সেক্রেটারি কাজী মোসলেউদ্দিন উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদেরকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খান বলেন, “আমাদের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। পরে ইউএনও ফোনে জানান, ভুলবশত আমাদের জানানো হয়নি এবং ভবিষ্যতে এমনটি হবে না।”
অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “প্রকৃত অসহায় ও অস্বচ্ছল মানুষের মাঝেই এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এখানে কোনো স্বজনপ্রীতি বা দলীয়করণ হয়নি।”
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ প্রসঙ্গে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “যদি প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে অর্থ বিতরণের অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন