ইতিহাস ডেস্ক
২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—এ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ধর্ম ও বর্ণভেদে বিভক্ত নয়, বাংলাদেশ সব মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সহাবস্থানের দেশ। এ দেশের মাটি সকল নাগরিকের, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতে যুগের পর যুগ মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। বাণীতে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবার সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। এই ঐতিহ্যই বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ শুধু একটি ভৌগোলিক সীমানা নয়, এটি একটি মানবিক চেতনার নাম—যেখানে সকলের জন্য সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’

সরস্বতী পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হিন্দু ধর্মমতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী হিসেবে পূজিত। দেবী সরস্বতী অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মানুষকে জ্ঞানের আলোয় পথ দেখান, যা ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরো পড়ুন...  বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবস নতুন প্রধানমন্ত্রীর

বাণীতে শিক্ষা ও জ্ঞানের সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আমাদের শিক্ষা যেন কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং সেই জ্ঞান দিয়ে আমরা সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখব, অসহায় ও দুর্বলদের পাশে দাঁড়াব এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ গড়ে তুলব।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের নানা সংকট ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তার ঐতিহ্যগত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের চর্চার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধে দৃঢ় থাকা।

বাণীর শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো জাতিগত ঐক্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১০

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১১

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১২

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৩

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

১৪

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ

১৫

গৌরীপুরে নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬

নলডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

সেনবাগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

১৮

গৌরীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

১৯

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

২০