আশিকুর রহমান শান্ত ভোলা জেলা প্রতিনিধি,
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ভোলার চার আসনে ২১ প্রার্থী জামানত হারালেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা জেলার চারটি আসনে মোট ২৯ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ভোটের নূন্যতম ১২.৫ শতাংশ না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিষয়টি শনিবার নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল হাই আল হাদী।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানানো হয়, পরাজিত প্রার্থীদের ভোটের হিসেব করে তাদের জামানতের বিষয়টি আদালতে পাঠানো হবে। এই চার আসনে জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির ৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩ জন, গণঅধিকার পরিষদের ২ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ১ জন, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) ১ জন, আমজনতার দল ২ জন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) ১ জন এবং স্বতন্ত্র ৬ জন রয়েছেন।

ভোলা জেলা নির্বাচন অফিস জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৭ ও ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ জামানত টাকা রাখেন। কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

ভোলা-১ (সদর) আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ১৮১। এখানে জামানত রক্ষার জন্য ন্যূনতম ২৬ হাজার ৬৪৭ ভোট প্রয়োজন ছিল। জাতীয় পার্টির মো. আকবর হোসাইন লাঙ্গল মাত্র ৫৯৯ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. ওবায়দুর রহমান ২৫ হাজার ২৪৫ ভোট, ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী ৩০৩ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান ১ হাজার ১০৩ ভোট, এনপিপি প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান ২১৭ ভোট ও স্বতন্ত্র রফিজুল হোসেন ১৩৪ ভোট পেয়েছেন। সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

আরো পড়ুন...  পরকীয়া সালিশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ১

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৬৬২। ন্যূনতম ২৭ হাজার ৭০৭ ভোট প্রয়োজন হলেও জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু পেয়েছেন মাত্র ৪৫০ ভোট। এলডিপি প্রার্থী ৩৮১, আমজনতার দলের প্রার্থী ৩৭০ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৯১–৫৯৬ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) ও ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনেও অধিকাংশ প্রার্থী ন্যূনতম ভোটের প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ভোলা-৪ এ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাত্র ২৪,৯৩৫ ভোট পেয়েছেন, যা ন্যূনতম ৩৭,৯৫১ ভোটের তুলনায় কম।

ভোলার চার আসনে মোট ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৬৮৮ ভোটারের মধ্যে ৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩৫৩ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৫৬.৫০ শতাংশ।

জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল হাই আল হাদী জানিয়েছেন, “বাজেয়াপ্ত জামানত প্রার্থীদের তালিকা আদালতে পাঠানো হবে এবং এর পরেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।”

এবারের ফলাফলে স্পষ্ট যে ভোলা জেলার নির্বাচনে অনেক প্রার্থী ন্যূনতম ভোটের মান অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতার তীব্রতা এবং জনমতকে প্রতিফলিত করছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১০

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১১

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১২

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৩

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

১৪

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ

১৫

গৌরীপুরে নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬

নলডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

সেনবাগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

১৮

গৌরীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

১৯

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

২০