রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) উপজেলার বেলগাছি গ্রামে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহত আলম (৪৪) উপজেলার বেলগাছি গ্রামের বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. আশরাফ।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বেলগাছি পূর্বপাড়া এলাকার পাঠক ক্লাবের সামনে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত মজিবর রহমান (৫৫) একটি চলন্ত ভ্যান থামানোর জন্য ইশারা দেন। তবে ভ্যানচালক আলম কিছুটা সামনে গিয়ে ভ্যান থামান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মজিবর। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়।
একপর্যায়ে মজিবর রহমান ইট দিয়ে আলমের মাথার পেছনে একাধিকবার আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে আলম ভ্যান থেকে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত মজিবর রহমানকে আটক করে পাঠক ক্লাবের ভেতরে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নিতে গেলে উত্তেজিত জনতা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং তাকে গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা চালায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোহনপুর থানা পুলিশের সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পুলিশের দক্ষ হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে নিরাপদে উদ্ধার করে হেফাজতে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে এ সময় জনতার সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বেলালউদ্দিনসহ অন্তত দুইজন পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই মোদাস্সের হোসেন খাঁন জানান, ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ধরনের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনা সমাজে উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, সহনশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন