কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামে পারিবারিক সম্পত্তি ও ইটভাটা ব্যবসা কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্মসাৎ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা ও ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. জিসান হোসেন দাবি করেন, তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং ইটভাটা ব্যবসার সঠিক হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বরং বিভিন্ন কৌশলে সম্পত্তি এককভাবে দখলের চেষ্টা চলছে।
জিসান হোসেন বলেন, তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তিনি পৈতৃক সম্পদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার অভিযোগ, ইটভাটার মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে এবং আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া সম্পত্তির হিসাব চাইলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, সম্পত্তির হিসাব চাওয়ার পর তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, চলমান মামলা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ও ইটভাটার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
জিসান হোসেন আরও জানান, পরিস্থিতির কারণে তিনি নিজ বাড়িতে থাকতে পারছেন না এবং বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, তাকে হয়রানি করতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, এমনকি মিথ্যা ঘটনার মাধ্যমে মামলায় জড়ানোর চেষ্টাও চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তারা দাবি করেছেন, পৈতৃক সম্পত্তির সুষ্ঠু বণ্টন, আত্মসাৎকৃত সম্পদের হিসাব প্রদান এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
এলাকাবাসীর মতে, পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের এমন ঘটনা প্রায়ই বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন