রাজশাহীতে একাধিক চেক জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি অভিলাস দাস তমালকে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার (৬ মার্চ) দিনগত রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর আদালতে দায়ের করা সিআর ৩৪৫/২৪ (রাজ) নম্বর মামলায় এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত অভিলাস দাস তমালকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করেন। আদালতের রায়ের পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন এবং গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তমাল দীর্ঘদিন ধরে চেক ও স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক চেক জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া তিনি বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধ না করায় সংশ্লিষ্ট কয়েকটি এনজিও আদালতে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা মাহবুবা খাতুন নীলা’র কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া নগরীর অবয়ের মোড় এলাকার বাসিন্দা সজিব ও ব্যবসায়ী মনি সহ আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও তিনি বিভিন্ন কৌশলে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেন করে তিনি নগরীর নিউমার্কেট এলাকার মতো অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সংক্রান্ত ঘটনায় বোয়ালিয়া থানায় তার বিরুদ্ধে ২২৫/২৩ নম্বর একটি মামলাও দায়ের রয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত ছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে আড়াল করতে এবং প্রভাব বিস্তার করতে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে কয়েকটি গণমাধ্যমের পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রেপ্তারের সময় কয়েকজন কথিত সাংবাদিক ও অসাধু ব্যক্তি তার পক্ষে অবস্থান নিয়ে পুলিশি অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম সিরাজুর রহমান জানান, তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য অভিযোগ ও মামলাগুলোর বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন