বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় খান ইসমাইল (৩৫) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং খান ইউনুসের ছেলে খান ইসমাইল শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে নিজ গ্রামের কবিরাজের মাঠের সামনে সড়কের পাশে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তারা ইসমাইলের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, শেখ রবিউল ইসলাম, শেখ হুসাইন, শেখ হুমায়ুন, শেখ রুহুল আমিন, শেখ সবুজ ও শেখ ওবায়দুল্লাহ একসঙ্গে ইসমাইলকে বেধড়ক মারধর করেন। তাদের মারধরে ইসমাইল গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় শেখ ইলিয়াসের নেতৃত্বে তার ছেলে, ভাইপো, জামাইসহ আরও কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। স্থানীয়রা জানান, শেখ ইলিয়াসের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি শহীদ মাওলানা গাজী আবু বকর সিদ্দিক হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের একজন শেখ হুমায়ুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি বলেন, তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটির সময় দোকানের ভেতরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে আহত খান ইসমাইল জানান, তাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত রামপাল থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তির পরিবার জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন