শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্যাম্পল (নমুনা) ওষুধ বিক্রির দায়ে তিনটি ফার্মেসিকে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে জব্দ করা অবৈধ ওষুধগুলো জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রোববার দুপুরে অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইদুল ইসলাম। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
অভিযান চলাকালে জৈনা বাজারের বিভিন্ন ফার্মেসিতে তল্লাশি চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ স্যাম্পল ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনসহ সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে মা-বাবা মেডিক্যাল হল-কে ১৫ হাজার টাকা, কাশফি মেডিসিন কর্নার-কে ১০ হাজার টাকা এবং জোবেদা মেডিকেল হল-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের জন্য বিনামূল্যে যেসব স্যাম্পল ওষুধ সরবরাহ করে, সেগুলো বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। অথচ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় এসব ওষুধ সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে থাকে। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, যা গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইদুল ইসলাম অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, “জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। প্রথমবার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কতামূলকভাবে তুলনামূলক কম জরিমানা করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা, এমনকি কারাদণ্ডও প্রদান করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ ও কার্যকর ওষুধ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
অভিযান চলাকালে জব্দ করা সকল মেয়াদোত্তীর্ণ ও অবৈধ ওষুধ তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়, যাতে সেগুলো পুনরায় বাজারে ফিরে আসতে না পারে। স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিয়মিত এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বাজারে ভেজাল ও অনিরাপদ ওষুধের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন