যশোর শহরের সার্কিট হাউজ পাড়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এক পরিচিত নাম বাবলু মোড়ল। কেউ তাকে স্নেহভরে ডাকেন ‘বাবলু স্যার’, কেউ বলেন ‘বাবলু মামা’। রাজনীতির জটিল হিসাব-নিকাশের চেয়ে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তিনি ছোটখাটো মানুষের নেতা—আর এই পরিচয়েই তিনি সন্তুষ্ট।
৫নং ওয়ার্ডের সার্কিট হাউজ পাড়ার বাসিন্দা বাবলু মোড়লের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে। তার পিতা মৃত কিনা মোড়ল এবং মাতা মৃতা আমেনা খাতুন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ এলাকায় বসবাস করছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি এক ছেলে আব্দুর রহমান সাগর ও এক মেয়ে খাদিজা বৃষ্টির জনক। দুজনই বিবাহিত। নাতি-নাতনিদের কোলাহলে তার বাড়ি সবসময় প্রাণবন্ত থাকে।
স্থানীয়রা জানান, বাবলু মোড়ল সব সময় নাগরিক ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি জাতীয়তাবাদী ধারার প্রার্থী অনিন্দ ইসলামের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। যশোর জিলা স্কুল কেন্দ্রের সার্কিট হাউজ পাড়া বুথে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে উল্লেখযোগ্য ভোট পড়েছে বলে জানা যায়। প্রায় ৬৫০ ভোটের মধ্যে অধিকাংশই ধানের শীষ প্রতীকে পড়েছে, যা ওই আসনের মধ্যে অন্যতম সেরা ফলাফল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ সাফল্যে বাবলু মোড়ল ও তার সহকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা সাবু জোয়ারদার, শিমুল ও হ্যাট্টিকসহ অন্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বাবলু মোড়লের সামাজিক কর্মকাণ্ডই তাকে এলাকাবাসীর কাছে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। প্রতি ঈদে তিনি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে সেমাই ও চিনি বিতরণ করেন। শীতকালে গরীবদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন। ছোটখাটো সামাজিক অনুষ্ঠানে নিম্নআয়ের মানুষদের সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন। তার এমন উদ্যোগে উপকৃত পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করে থাকে। স্থানীয়দের মতে, বাবলু মোড়ল কোনো বড় মাপের রাজনীতিক নন, তবে মানবিকতায় তিনি সবার কাছে বড়।
নিজের অবস্থান সম্পর্কে বাবলু মোড়ল বলেন, “আমি রাজনীতি খুব বেশি বুঝি না। যে নেতা গরীব মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝে, আমি তার পাশে থাকার চেষ্টা করি।” তিনি দক্ষিণাঞ্চলের বর্ষীয়ান রাজনীতিক তরিকুল ইসলাম-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তার আদর্শ তাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি মনে করেন, অনিন্দ ইসলাম সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুধাবন করেন বলেই তিনি তার সঙ্গে আছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও বাবলু মোড়ল একইভাবে মানুষের পাশে থাকবেন। সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সার্কিট হাউজ পাড়াকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা রাখবেন—এমনটাই আশা স্থানীয়দের।
মন্তব্য করুন