যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামে ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে প্রবাসী হারুন অর রশিদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও গাছে ঝুলিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হানুয়ার গ্রামের আব্দুল মজিদ গাজীর ছেলে হারুন অর রশিদ ২০১১ সালে একই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে রুবিনা খাতুন (৩০)-কে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর তিনি কাজের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। প্রবাসে অবস্থানকালে তিনি নিয়মিতভাবে স্ত্রীর কাছে বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেল, মোবাইল ব্যাংকিং ও মানি ট্রান্সফার সেবার মাধ্যমে অর্থ পাঠাতেন। হারুনের দাবি, দীর্ঘ বছর প্রবাসজীবনে তিনি এক কোটিরও বেশি টাকা পাঠিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্ত্রী রুবিনা তাকে এক সময় জানান, তার কাছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা সঞ্চিত আছে। তবে গত বছর দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন, টাকার পরিমাণ ৪০ লাখে নেমে এসেছে। এর পরদিনই রুবিনা বাপের বাড়ি চলে যান এবং আর সংসার করবেন না বলে জানিয়ে দেন।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি একমাত্র ছেলে আলভী (১৩)-কে দেখতে এবং টাকার বিষয়ে কথা বলতে হারুন শ্বশুরবাড়িতে গেলে বিকেল তিনটার দিকে তাকে ঘিরে ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, প্রায় ৩০ জন তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। খবর পেয়ে তার পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে পরিবার তাকে চিকিৎসা দেয়।
অভিযোগপত্রে রুবিনা খাতুন, তার মা জাহানারা বেগম, আব্দুল্লা, সাইফুল, রাজু, ইসাহক, মোজাফ্ফর ও নিজামসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। হারুন জানান, তিনি আরও কয়েকজনকে চিনতে পারলেও সবার নাম বলতে পারেননি।
হারুনের দাবি, রুবিনা রাজগঞ্জ বাজারের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক-এ তার পাঠানো টাকা জমা রাখতেন। সম্প্রতি ব্যাংকে খোঁজ নিতে গেলে তিনি জানতে পারেন, শেষ থাকা ৫৫ হাজার টাকাও তুলে নেওয়া হয়েছে এবং হিসাবে আর কোনো অর্থ নেই।
তবে মনিরামপুর থানার এসআই ওবায়দুর রহমান বলেন, তারা হারুনের অসুস্থতার বিষয়টি জানেন। অন্যদিকে রুবিনার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, হারুন মাদকাসক্ত এবং নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
গ্রামবাসীর একাংশ রাজনৈতিক বিরোধের ইঙ্গিত দিলেও পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী তার ওপর হামলার বিচার ও অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন