ভাটা ও জমি সংক্রান্ত মামলা আদালতে চলমান থাকা অবস্থায় শরিকদের ফাঁকি দিয়ে জোরপূর্বক ইটভাটার মাটি কেটে অন্য ভাটায় বিক্রি করার অভিযোগে কাউছার হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। একই সঙ্গে পৈতৃক সম্পত্তি ও ইটভাটার হিসাব বুঝিয়ে না দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে মো. জিসান হোসেন, মৃত রজব আলী প্রামাণিকের মেয়ে মোছা: আলহেরা খাতুন, তার ছেলে মো. মোহাম্মদ আরমান হোসেন, মো. মোহাম্মদ ইসরাইল হোসেন, মেয়ে মোছা: আলসেবা খাতুন, মোছা: হাবেলা খাতুন এবং মৃত জুব্বার প্রামাণিকের ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জমি ও ইটভাটা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত কাউছার হোসেন একক সিদ্ধান্তে ভাটার জমি থেকে মাটি কেটে অন্য ভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও আদালত অবমাননার শামিল। এতে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, অভিভাবকদের মৃত্যুর পর পৈতৃক ব্যবসা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সঠিক হিসাব তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। বরং নানা কৌশলে তাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হচ্ছে। কেউ কেউ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির কথাও জানান। এমনকি বৈধ মালিকদের ‘লা-ওয়ারিশ’ বা ‘ভুয়া মালিক’ প্রমাণ করার অপচেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার আইনের আশ্রয় নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও প্রতিপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মানেনি। বরং হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের চুপ করিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বশেষ উপায় হিসেবে তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে ভাটা ও জমির অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ, আত্মসাৎকৃত সম্পদের হিসাব প্রদান, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে চলমান মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানান তারা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তারা আরও বড় ধরনের কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবেন।
মন্তব্য করুন