নানা আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘ফুল বিজু’। রোববার (১২ এপ্রিল) ভোর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ছুটে যান চেঙ্গী ও মাইনী নদীর তীরে। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবস্থল পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
ফুল বিঝুর মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে পুরাতন বছরকে বিদায় জানানো হয় এবং নতুন বছরের আগমনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের প্রার্থনা করা হয়। এই ঐতিহ্যবাহী আচার পার্বত্য অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
চেঙ্গী নদীর তীরে ফুল ভাসাতে এসে অনুষ্কা চাকমা বলেন, “আজ ফুল ভাসানোর মাধ্যমে আমরা পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরের জন্য মঙ্গল কামনা করেছি।” একই স্থানে মনিষা চাকমা বলেন, “ফুল বিঝু আমাদের প্রাণের উৎসব। এই দিনে সবাই মিলে নদীতে ফুল ভাসানো আমাদের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে।”
সুভ্রত চাকমা বলেন, “বছরের এই সময়টাতে আমরা সবাই একসঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করি। ফুল বিঝু আমাদের মিলনমেলা।” অপরদিকে সুমিত্রা চাকমা বলেন, “নতুন বছরের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে ফুল বিঝু। প্রকৃতি আর মানুষের এই মিলন আমাদের জন্য এক বিশেষ অনুভূতি।”
স্থানীয়রা জানান, ফুল বিঝু শুধু একটি উৎসব নয়, এটি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐক্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন। বছরের এই সময়ে পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
উল্লেখ্য, ফুল বিঝুর ধারাবাহিকতায় আগামীকাল উদযাপিত হবে মূল বিঝু। এর পাশাপাশি একই দিনে শুরু হবে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ‘বৈসু’ এবং মারমা সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রাই’ উৎসব। এসব উৎসবকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে পার্বত্য অঞ্চলে চলছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খেলাধুলা ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।
পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর এই উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে পুরো অঞ্চলটি এখন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
মন্তব্য করুন