কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলার বর্ণাঢ্য উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলা স্থানীয় শিক্ষা ও প্রযুক্তি চর্চায় নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
রবিবার সকালে ভেড়ামারা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো অডিটোরিয়াম উৎসবমুখর পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম। তিনি মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণামুখী মনোভাব ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার, ভেড়ামারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফারুক আহমেদ, উপজেলা আইসিটি অফিসার এবং সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে শিখে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বার, একাডেমিক সুপারভাইজার হেলাল উদ্দিন, পশ্চিম বাহির চর বার মাইল দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাসুদ করিম, হাজিওয়াজেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীর হোসেন, তৌহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকবৃন্দ।
মেলায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। শিক্ষার্থীদের তৈরি বিজ্ঞান প্রকল্প, প্রযুক্তিভিত্তিক মডেল এবং গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।
মেলা শেষে বিকেলে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ প্রকল্প ও উদ্ভাবনী উপস্থাপনার জন্য শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম। তিনি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
আয়োজকরা জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি এবং তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতেই এ ধরনের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অংশগ্রহণকারীরা এ মেলাকে অত্যন্ত সফল ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন।
মন্তব্য করুন