
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও ব্যালট পেপার। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে জেলার ছয়টি উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বুঝে নেন।
জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এসব নির্বাচনী উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে। নির্বাচনী সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্প, ভোটার তালিকা, বিভিন্ন ফরম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। প্রতিটি কেন্দ্রে যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন জানান, নরসিংদীর পাঁচটি আসনের মোট ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের আওতায় রয়েছে ৫টি পৌরসভা ও ৭১টি ইউনিয়ন। এসব এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৩ হাজার ৪ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩৬ জন। ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরঞ্জাম বিতরণ শেষে সেগুলো কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।
আসন্ন নির্বাচনে নরসিংদীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শেষ করে এখন ভোটের অপেক্ষায় রয়েছেন। ভোটারদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রশাসনের প্রত্যাশা, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুষ্ঠুভাবে প্রয়োগ করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন