
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে দিনের বেলায় হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার দাবিতে একটি স্বাগত মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাদ মাগরিব সেনবাগ বাজার কেন্দ্রীয় বড় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলের সূচনা হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন সেনবাগ উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির হযরত মাওলানা ইয়াসিন মিয়াজী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ থানা জামায়াতে ইসলামের আমির জনাব ইয়াসিনুল করিম এবং স্থানীয় মসজিদের মুসল্লি ও তৌহিদী জনতা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা বজায় রাখা, রোজাদারদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ক্ষুণ্ন না করার উদ্দেশ্যে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অংশ নেন। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সেনবাগ বাজার কেন্দ্রীয় বড় মসজিদ থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে পৌর মার্কেটের সামনে গিয়ে ইউ-টার্ন নেয় এবং পরে উপজেলা চত্বরে গিয়ে আবার ইউ-টার্ন করে সেনবাগ থানার মোড়ে এসে শেষ হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়। পুরো কর্মসূচিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
মিছিলের বিষয়ে স্থানীয়রা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিছু বাসিন্দা রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় এবং রোজাদারদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে দিনের বেলায় হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, অনেকে ব্যক্তিস্বাধীনতা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা মনে করেন, ধর্মীয় আবহ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিনের বেলায় হোটেল ও রেস্তোরাঁ খোলা রাখার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক দেখা যায়। অনেকে ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতা রক্ষার পক্ষে থাকেন, আবার কিছু ব্যবসায়ী ও নাগরিক ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আর্থিক কার্যক্রম বজায় রাখার দাবিতে আলোচনা করেন।
সেনবাগে অনুষ্ঠিত এই মিছিলও একই রকম প্রতিক্রিয়ার মিশ্র ছাপ ফেলেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলের সময় পর্যবেক্ষণ রাখে এবং কোনো ধরনের অশান্তি রোধে তৎপর থাকে। মিছিলের মাধ্যমে রমজানকে কেন্দ্র করে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ধর্মীয় অনুভূতিকে মর্যাদা দেওয়ার বার্তাও প্রদান করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন