
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় ঝালকাঠিতে অনুষ্ঠিত হলো বয্লুর রহমান হক্কোননূরী বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, কাঠালিয়া উপজেলার ১৭৮টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ৫২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রতিটি শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীসহ ১৫ জন করে মোট ১৮০ জন শিক্ষার্থীকে এ বৃত্তি প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকরা জানান।
অনুষ্ঠানে ঝালকাঠি-১ (কাঠালিয়া-রাজাপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রণোদনা দিলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের আহ্বান জানান।
বৃত্তির অর্থের পরিমাণ অনুযায়ী প্রথম স্থান অধিকারীরা পেয়েছে ৫,০০০ টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীরা ৪,৫০০ টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীরা ২,৫০০ টাকা করে। এছাড়া অন্যান্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১,৫০০ টাকা ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বয্লুর রহমান হক্কোননূরী বৃত্তি প্রদান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মঞ্জিল মোর্শেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক-এর সাবেক এডিটর জিএম কায়কোবাদ মিলন, কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হারান চন্দ্র পাল, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জালালুর রহমান আকন, সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন নিজাম এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মঞ্জিল মোর্শেদ বলেন, এই বৃত্তি কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাঝে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা এবং মেধা বিকাশে সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ ও উৎসাহের আবহ লক্ষ্য করা যায়। আয়োজকদের এমন উদ্যোগে স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন