
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় তরুণ ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে অনূর্ধ্ব-১৭ বালক ফুটবল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ-এর উদ্যোগে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় আলীকদম সরকারি মাঠে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম রিমন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই-এর প্রতিনিধি ও জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মার্মা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনজুর আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আলীকদম সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম (টিআই), আলীকদম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দীন জুয়েলসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মোট ২৪ জন উদীয়মান ফুটবলার অংশগ্রহণ করেন। তাদের দক্ষতা উন্নয়নে একজন হেড কোচ ও একজন স্থানীয় সহকারী কোচ দায়িত্ব পালন করেন। ১০ দিনের নিবিড় প্রশিক্ষণে খেলোয়াড়দের মৌলিক কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, শট নেওয়া, রক্ষণভাগের কৌশল, ফিটনেস উন্নয়ন এবং টিমওয়ার্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধিতেও জোর দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়কে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের শুরুতেই তাদের জার্সি, ফুটবল বুট ও প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ করা হয়, যা তাদের উৎসাহ ও অংশগ্রহণকে আরও গতিশীল করে তোলে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের তরুণদের খেলাধুলার মাধ্যমে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পরিষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান কিশোররা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারে।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নিয়মিত ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে পার্বত্য এলাকার ফুটবল প্রতিভারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য অর্জনের সুযোগ পাবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করবে না, বরং তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন