
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার, দোয়া মাহফিল ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে মাহানপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, ইউনিয়ন পরিষদ এবং স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর–১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মনজুরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মহাসিন আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলাকে মাদকমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। এই মাসের শিক্ষাকে ধারণ করে আমাদের সমাজ থেকে মাদক, সন্ত্রাস ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড দূর করতে হবে।” তিনি আরও জানান, রমজান শেষে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।
এসময় তিনি চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তার ভাষ্য, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করলে বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।” তিনি স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়নকাজ শুরু হবে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মো. রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত জুলিয়াস জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহেদুল ইসলাম মাজু, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নবী ওয়াট ও সদস্য সুবাস দাস। তারা বক্তব্যে রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু ধর্মীয় অনুভূতিকে জাগ্রত করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মনোভাবও জোরদার করে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয় অনুষ্ঠানে।
মন্তব্য করুন