
দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার: সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে হাকিমপুর ও হিলির নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে হাকিমপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি উপজেলা প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র্যালিতে নারী অধিকার, সমঅধিকার, মর্যাদা এবং সুরক্ষার বার্তা বহন করা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রয় চাকমা। সভায় বক্তারা বলেন, একটি মানবিক ও সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠনে নারীর ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
আলোচনা সভায় হিলি নারী উদ্যোক্তা সভাপতি জাকিয়া ডলি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আজকের এই প্রোগ্রাম মূলত নারীদের জন্য হলেও আমাদের কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। তাই আমি নিজস্ব উদ্যোগে মঞ্চে উঠে আমার অধিকার আদায় করেছি।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিতরা করতালি দিয়ে সমর্থন জানান। ইউএনও মহোদয়ও বিষয়টি তৎক্ষণাৎ লক্ষ্য করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা প্রদান করেন।
সভায় জাকিয়া ডলি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে নারীরা আরও অবহেলিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রতিদিন আমরা শুনি কন্যা সন্তানকে পরিবার থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ ও হত্যা করা হচ্ছে। এভাবে কি আমরা নিরাপদে বাঁচতে পারব?” তাঁর বক্তব্যে নারী নিরাপত্তা, সামাজিক সচেতনতা এবং সমতার প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রয় চাকমা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম, সমাজসেবা অফিসার মোঃ মাসুদ রানা, পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ তাহিরুল ইসলাম, একাডেমিক সুপারভাইজার সাখাওয়াত হোসেন, বন বিভাগের শাহজান আলী, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ পারুল নাহার, হিলি প্রেসক্লাব সভাপতি গোলাম রব্বানী, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আশরাফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
উক্ত কর্মসূচি নারী ক্ষমতায়ন ও সমতার বার্তা সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হয়েছে।
মন্তব্য করুন