
দিনাজপুরে প্রস্তাবিত খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য চাষের সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।11111
শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত সফর উপলক্ষে খাল খনন এলাকার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দিনাজপুরের এই খাল খনন কর্মসূচিও সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
মন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরে এসে এই খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই প্রকল্পটির কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওই অঞ্চলের কৃষকরা সহজ শর্তে এবং স্বল্প খরচে সেচের পানি ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন আরও বলেন, খাল খননের ফলে শুধু কৃষি খাতই নয়, মৎস্য খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। খালের পানিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবকদের জন্য মৎস্য চাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে, পাশাপাশি হাঁস পালনসহ অন্যান্য জলনির্ভর কার্যক্রমের প্রসার ঘটবে। এতে করে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খাল খনন এলাকার পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হাসান আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, স্থানীয় সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক এবং দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১৬ মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন