
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাইগাছা সুজনপালশা গ্রামের মোঃ ফাইজুল ইসলাম এক ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। আরামদায়ক এনজিও ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে তিনি এখন রাস্তায় ও বিভিন্ন বাজারে ফেরি করে চা ও কফি বিক্রি করছেন। তার এই সাহসী উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
ফাইজুল ইসলাম জানান, চাকরির স্থিতিশীলতা থাকলেও সেখানে তিনি মানসিক তৃপ্তি খুঁজে পাননি। বিশেষ করে সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কারণে তার মনে এক ধরনের অস্বস্তি কাজ করত। তিনি বলেন, “সুদের চাকরিতে বরকত নেই। তাই আমি চাকরি ছেড়ে নিজের মতো করে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তার মতে, স্বাধীনভাবে কাজ করার মধ্যে রয়েছে আত্মতৃপ্তি ও মানসিক শান্তি, যা তিনি বর্তমান পেশায় খুঁজে পেয়েছেন।
বর্তমানে ফাইজুল প্রতিদিন সকালে নিজেই চা ও কফি প্রস্তুত করে বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় ফেরি করে বিক্রি করেন। সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যে চা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার ব্যবহার, আন্তরিকতা এবং পণ্যের মানের কারণে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফাইজুল ইসলাম আরও বলেন, “চা বিক্রি ছাড়াও দেশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ রয়েছে। যারা বেকার আছেন, তারা বসে না থেকে অল্প পুঁজিতে ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে সফলতা আসবেই।” তিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহর উপর ভরসা রেখে সৎভাবে কাজ করলে জীবনে বরকত আসে, যা তিনি নিজের জীবনে অনুভব করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফাইজুলের এই উদ্যোগ সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনেকেই তার কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে আগ্রহী হচ্ছেন। তাদের মতে, চাকরির পেছনে না ছুটে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এই মানসিকতা তরুণদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বেকারত্ব একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগও কম নয়। ফাইজুল ইসলামের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি, সৎ প্রচেষ্টা এবং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে স্বল্প পুঁজিতেও সফল হওয়া সম্ভব।
সবমিলিয়ে, ফাইজুল ইসলামের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনে পরিবর্তন আনেনি, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে—যেখানে স্বাধীন পেশা ও আত্মনির্ভরশীলতাই হয়ে উঠেছে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
মন্তব্য করুন