
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে স্থানীয় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান ‘স্টাইলস্মিথ স্যান এ্যাপারলেস’-এ হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমতৈল গ্রামের দুই প্রভাবশালী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক জেলা বিএনপির সদস্য ও উক্ত গার্মেন্টসের মালিক জাহিদুল ইসলাম এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় বিএনপি নেতা লিপটন মিয়া। পূর্বের বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, লিপটন মিয়ার সমর্থকেরা প্রথমে ‘স্টাইলস্মিথ স্যান এ্যাপারলেস’ গার্মেন্টসে হামলা চালায়। এ সময় তারা গার্মেন্টসের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভবনের কাঁচ ভাঙচুর করে। পাশাপাশি গার্মেন্টসের বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও জেনারেটরেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষে সোহান (২৭), মোহন মল্লিক (৩২), সাইফুল (৪৫), আইয়ুব (৫০), শাখাওয়াত (৪৮), শহিদুল (৪০), মানিক (২০), হামীম (২২), শাওন (২৫), ফজলু (৪০) ও রোকেয়া বেগম (৩৫)সহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ সময় কয়েকটি দোকানঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় এবং আশপাশের কিছু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে।
গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় বিরোধের কারণে বারবার তাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এবারের হামলায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন।
স্থানীয় দোকান মালিক আতিয়ার রহমান বলেন, “আমি কোনো পক্ষের সঙ্গে জড়িত নই। গার্মেন্টস বন্ধ থাকায় আমার দোকানও বন্ধ ছিল। পরে খবর পেয়ে এসে দেখি দোকানের শাটার ভেঙে মালামাল লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন মিয়া জানান, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দীর্ঘদিনের এ ধরনের বিরোধ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
মন্তব্য করুন