
বাগেরহাটের শরণখোলায় চাঞ্চল্যকর কিশোরী ফাতেমা আক্তার রিয়া মনি (১৫) হত্যাকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে শরণখোলা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক।
ওসি বলেন, গত ২৫ মার্চ শরণখোলা থানায় রিয়া মনি হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ, বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার রাজৈর গ্রামের মাসুম বিল্লাহ হাওলাদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম রুবেল (৩৫), উত্তর কদমতলা গ্রামের মৃত আওয়াল সরদারের ছেলে মো. মিজানুর রহমান (২৩) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের মো. আমিরের ছেলে তুহিন (২১)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার বাগেরহাটের বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি শামিনুল হক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অর্থ আদায়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং মাদক কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার দাবি, নিহত রিয়া মনিকে কেন্দ্র করে একটি চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এরই জেরে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বাইরে এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগগিরই বাকি আসামিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের একটি মসজিদের সামনে রাস্তার ওপর রিয়া মনির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত রিয়া মনি পশ্চিম রাজৈর এলাকার মো. আজিমের মেয়ে। তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা মো. আজিম বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২৫ মার্চ দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শরণখোলা থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন