
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা-এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম (৪৫), যিনি স্থানীয়ভাবে বুড়িমারী ইউনিয়নের চৌকিদার হিসেবে পরিচিত।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৭ মার্চ, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন-এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উপজেলার করলাটারী এলাকায় অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের সময় রফিকুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অবৈধভাবে পাথর-বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, অভিযানের সময় তিনি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেন বলে প্রশাসন জানায়। এসব অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
ইউএনও তানভীর হোসেন বলেন, “অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেখানেই এমন কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, আটক রফিকুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
অভিযানের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব আলামতের মধ্যে বিভিন্ন মেশিন মালিক এবং তথাকথিত ‘লাইনম্যানদের’ সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ‘বোমা মেশিন’ চালানোর অনুমতি বা লাইনের বিষয়ে কথোপকথনের তথ্য প্রশাসনের হাতে এসেছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে এই কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন রাতের আঁধারে শত শত মেশিন চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়, যেখানে প্রতিটি মেশিন থেকে ৫ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে সাবেক ইউএনও উত্তম কুমার দাস-এর সময় কিছুদিনের জন্য এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে পরবর্তীতে তা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এই অবৈধ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত আরও অনেক ব্যক্তি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত, যারা মাঠপর্যায়ে মেশিন পরিচালনা ও অর্থ লেনদেনের দায়িত্ব পালন করে থাকে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তাদের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অবৈধ সম্পদ আহরণ ও পরিবেশ ধ্বংসকারী এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের ধারাবাহিক ও কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
মন্তব্য করুন