
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দুই ভাইয়ের দুটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালির মালামালসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ঘষিয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ঘষিয়াখালী গ্রামের মৃত ফেরদৌস শিকদারের ছেলে ব্যবসায়ী বাদল শিকদার ও তার ছোট ভাই প্রতিবন্ধী বাহাদুর শিকদারের পাশাপাশি থাকা দুটি বসতঘরে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়লে দুটি ঘরই সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

পরিবারের দাবি, আগুনে বাহাদুর শিকদারের ঘরে থাকা নগদ ৪০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মূল্যবান মালামাল পুড়ে গেছে। সব মিলিয়ে দুই পরিবারের প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবন্ধী বাহাদুর শিকদার বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তার শ্বশুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পাশের গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান। ওই সুযোগে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
বাদল শিকদার অভিযোগ করে বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে প্রতিবেশী আসাদ শিকদার ও তার লোকজন আমাদের চিংড়িঘের দখল করে নেয়। নিজেদের জমির মধ্যেও জোরপূর্বক ঘর তোলে। তাদের ভয়ভীতির কারণে আমরা পরিবার নিয়ে বাগেরহাট শহরে থাকছি। বাড়িতে শুধু আমার ছোট ভাই তার পরিবার নিয়ে থাকত। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্থানীয় এক প্রতিবেশী অভিযুক্ত আসাদ শিকদারকে ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চলে যেতে দেখেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত বাদল শিকদারের স্ত্রী হাফিজা বেগম, বাহাদুর শিকদারের স্ত্রী পলি বেগমসহ স্থানীয়রা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় আব্দুল হালিম হাওলাদার, হাসান শিকদার, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জেবু এবং প্রচার সম্পাদক মো. এনায়েত গাজী বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে আসাদ শিকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। কেউ যদি এমন কাজ করে থাকে, তাহলে তার বিচার হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুর রহমান বলেন, আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন