
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৮০ বিঘার একটি চিংড়িঘেরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে ঘের দখলের অভিযোগ তোলায় ক্ষুব্ধ হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র এবং প্রকৃত জমির মালিকদের হয়রানি করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার বিকেলে কলেজ বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহরবুনিয়া গ্রামের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮০ বিঘার ওই চিংড়িঘের স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে যৌথভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছেন আলি আজিম। তারা জানান, গত দুই বছর ধরে তিনি নিয়মিত জমির মালিকদের পাওনা পরিশোধ করে ঘের পরিচালনা করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ বহিরাগত লোকজন নিয়ে ওই ঘেরে ঢুকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। বর্তমানে একই পক্ষ আবারও ঘেরটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি আলম খান-এর নেতৃত্বে একটি পক্ষ আলি আজিম-এর বিরুদ্ধে ঘের দখলের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে। এতে এলাকায় বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রকৃত জমির মালিকদের সঙ্গে নিয়ে যারা ঘের পরিচালনা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আলি আজিম, জেসমিন আক্তার, বাদশা শেখ, রাকিব হোসেন জোমাদ্দার এবং হারেজ হাওলাদার।
বক্তব্যে আলি আজিম বলেন, আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। আমি স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে যৌথভাবে ঘের পরিচালনা করছি। যারা আগে জমির মালিকদের হয়রানি করত, তারাই এখন আবার নতুন করে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং প্রকৃত জমির মালিকদের নিজেদের জমিতে নিজেরাই চিংড়িঘের করার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলম খান। তিনি বলেন, তিনি কারও ঘের থেকে মাছ ধরেননি কিংবা কাউকে হয়রানিও করছেন না। স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে বৈধভাবে পাওনা পরিশোধ করেই তিনি ঘেরটি পরিচালনা করছেন।
মন্তব্য করুন