
**কক্সবাজার, ২৪ জানুয়ারি:** কক্সবাজারে পৃথক তিনটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং মালামালসহ তাদের পুলিশে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রথম অভিযানটি রেজুখাল চেকপোস্টে পরিচালিত হয়। সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি প্রাইভেট কার তল্লাশি করা হয়। ৩৪ বিজিবি জওয়ান ডগ স্কোয়াডের সহায়তায় গাড়ির অতিরিক্ত চাকার ভিতর লুকানো ৭৫,৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। অভিযানে প্রাইভেট কারের চালক আব্দুল হক (৪৬) কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং গাড়িও জব্দ করা হয়।
দুপুরে একই চেকপোস্টে আরেকটি প্রাইভেট কারকে সন্দেহজনকভাবে তল্লাশি করা হয়। গাড়ির যাত্রী মিলন মাহমুদ সজিব (২৭) কে আটক করা হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে তার পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার দেহ থেকে ৩,৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
তৃতীয় অভিযানটি মংজয়পাড়া বিওপির একটি বিশেষ টহলদল পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত পিলার-৪২ থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামিরতলি এলাকার একটি পাহাড়ি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ অভিযান থেকে মালিকবিহীন ৩০,০০০ পিস ইয়াবা ও ৫ লিটার বাংলা মদ জব্দ করা হয়।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিবিজিএম, পিএসসি) সাংবাদিকদের জানান, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালসহ আসামিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ মাদক প্রবাহ ঠেকাতে আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রাখছি। সাধারণ জনগণকে মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এটি কক্সবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবা ও মাদকের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় অভিযানগুলির মধ্যে একটি। বিশেষ করে টেকনাফ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় চেকপোস্ট এবং গোপন নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে মাদক পাচার রোধে ভূমিকা রাখছে।
অভিযানগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে সীমান্ত এলাকা ও সড়ক পথে আরও তল্লাশি চালানোর ঘোষণা দিয়েছে।
মন্তব্য করুন