
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবসমাজকে ভাতা নির্ভর না করে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়াই জামায়াতের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেবো না। বরং তাদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলবো। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে আমরা যুবকদের সম্মানের জায়গায় বসাতে চাই।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে বারটায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো আদিপত্যবাদ মানবো না, আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। এই দেশ আর দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনের ভার নিতে চায় না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা আগামী দিনে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই—যেখানে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তিনি চৌদ্দগ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি আমাদের ভোট দেন এবং আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যাই, তাহলে ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দেখতে পাবেন—ইনশাআল্লাহ। এই সুযোগ কাজে লাগাবেন কিনা, সেটা আপনাদের সিদ্ধান্ত।”
বিগত দমন-পীড়নের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, “শত অত্যাচার-নির্যাতনের পরও আমরা দেশ ছেড়ে পালাইনি। আমরা ছিলাম, আছি এবং থাকবো ইনশাআল্লাহ। আমরা মজলুম ছিলাম বলেই মজলুমের কষ্ট বুঝি। যে মজলুম, সে কখনো জালিম হতে পারে না।”
নারী নিপীড়ন ও হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “যারা আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের ওপর হাত দেয়, তাদের বয়কট করার সময় এসেছে। যারা মায়েদের কাপড় খুলে নেওয়ার হুমকি দেয়, তাদের হাতে বাংলাদেশ কখনো নিরাপদ হতে পারে না। কোথাও যদি মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হয়, সেখানে সাহসী যুবকদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”
মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো ভয় পাবেন না। ভয় দেখিয়ে আপনাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। আপনারা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দিন, চাঁদাবাজদের রুখে দিন। জামায়াত ক্ষমতায় এলে মা-বোনেরা নিরাপদে বসবাস করবেন।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌরসভাসহ তেরটি ইউনিয়ন থেকে আগত জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে জনসভাটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন