
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। বুধবার (বিকেল ৪টা ১৩ মিনিটে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উল্লেখ করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ইকরার বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশা কিছু ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে দাবি করেন, যাহের আলভী ও তিথির কথিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণেই ইকরা চরম সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় যাহের আলভী, তার মা এবং অভিনেত্রী তিথিকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্যতম আসামি হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিথি। ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইকরার সঙ্গে তার কোনো বৈরী সম্পর্ক ছিল না। বরং তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। প্রমাণ হিসেবে ইকরার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট ও ভয়েস রেকর্ড সংরক্ষিত আছে বলে জানান তিনি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে এসব প্রমাণ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিথি আরও দাবি করেন, ইকরার ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অস্থিরতা ও মানসিক চাপ ছিল। ২০১৮ সালে আলভীর সঙ্গে আলাদা হওয়ার পর ইকরা বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও পরিবারের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে সমর্থন পাননি বলে দাবি করেন তিথি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইকরা নিজেই পরিবার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতেন। এমনকি যেসব ব্যক্তি এখন সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন, তাদের সম্পর্কেও ইকরা অতীতে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংসার ভাঙার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিথি বলেন, তিনি বরং ইকরাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহ দিতেন। ইকরা অভিমানে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার কথা বললে, তাকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে সংসার রক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সম্পর্ক এতটাই স্বাভাবিক ছিল যে একসঙ্গে পারলারে যাওয়া, উপহার আদান-প্রদান এবং বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিথি।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, ইকরা তার ব্যক্তিগত কষ্ট বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। এমনকি এক পর্যায়ে একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ‘কালোজাদু’ করার সন্দেহও প্রকাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিথি। সবশেষে ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শিশুপুত্র রিজিকের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন এই অভিনেত্রী।
এদিকে, ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন