
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, জগদীশপুর-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৫তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী। দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এবারের অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— *“ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা একটি পূর্ণাঙ্গ জাতি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।”* সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের পদচারণা, রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন ও সাজসজ্জায় পুরো ক্যাম্পাস উৎসবের রূপ নেয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর পতাকা উত্তোলন ও শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
দৌড়, লং লাফ, দড়ি লাফানো, বালিশ বদলানো, মোরগ লড়াই, কুচকাওয়াজসহ নানা ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাদের শারীরিক দক্ষতা, দলগত চেতনা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পর্বে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে।
বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মহিবুল হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের বিদায়ী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শব্বির আহমদ চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, সহযোগিতা ও স্পোর্টসম্যানশিপ গড়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তাই লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক শব্বির আহমদ চৌধুরী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেলিনা বেগম (প্রধান শিক্ষক, জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) এবং স্বাস্থ্যকর্মী আমিরুল ইসলাম দিলশাদ।
সহকারী শিক্ষিকা রুমন আচার্য্য ও রিয়াজ উদ্দিনের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মুহিবুর রহমান, সহকারী শিক্ষক সালেনুর ইসলাম, মিহির কান্ত দাশ, কিশলয় মুখার্জি, সানোয়ার, সাজনুর হোসেন এবং কম্পিউটার অপারেটর হাফিজুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রধান অতিথি পুরস্কার বিতরণ করেন। আনন্দঘন এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন