ইতিহাস ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিআইডি
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিআইডি

ঢাকার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমর একুশে বইমেলাকে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বইমেলায় রূপ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল আয়োজন অমর একুশে বইমেলা। তবে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বছরগুলোতে এটি আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজনের সুযোগ আছে কি না—সেটি ভেবে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হলে বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি বহু ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে বইমেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘ-এর দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে একুশ এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে পথচলা করছে।

আরো পড়ুন...  দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের

বইমেলা হোক প্রাণের মিলনমেলা

তিনি বলেন, অমর একুশে বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। বইমেলাকে কেন্দ্র করে মাসব্যাপী আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সঙ্গীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

সারাদেশে বইমেলা আয়োজনের প্রস্তাব

প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দেন, অমর একুশে বইমেলাকে কেবল নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় আয়োজন করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রকাশকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

গবেষণাধর্মী বই প্রকাশে গুরুত্বারোপ

তিনি বলেন, প্রতি বছর বইমেলার পরিসর বাড়লেও গবেষণাধর্মী বই প্রকাশ ও পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। বই পড়া মানুষের মেধা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত বই পড়া মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলা একাডেমির উদ্যোগে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাহিত্য বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোর ৫নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আরিফুল কামাল লাইট

কক্সবাজার মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও অভিষেক অনুষ্ঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরিয়ারে ২২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ‘এ-ইউনিট’ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন

টেকনাফে মুরগির খামার থেকে ৫ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার, মালিক পলাতক

হিলিতে নিখোঁজ মেহের আলীকে উদ্ধারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশ

গাবুরায় অভিযোজন কৃষি প্রশিক্ষণ

নারী আসনে মনোনয়ন নিলেন রুমা

গলাচিপায় জমি বিতর্কে উত্তেজনা

১০

ভ্যানচালককে পিটিয়ে হত্যা

১১

মোরেলগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার সমাপনী

১২

কুলিয়ারচরে মামলা পরবর্তী হুমকির অভিযোগ

১৩

কুলিয়ারচরে কৃষকের বাড়িতে হামলা, আহত ৫

১৪

বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস আজ

১৫

গৌরীপুরে নববর্ষ উদযাপনে প্রস্তুতি সভা

১৬

নলডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন

১৭

সেনবাগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

১৮

গৌরীপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের প্রস্তুতি সভা

১৯

গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

২০