সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মরহুম ওলিউর রহমান মালেকা জনকল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ, সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাদ জুম্মা হবিবপুর পশ্চিমপাড়া শাহী ঈদগাহ মাঠে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিরুজ আলী এবং সঞ্চালনা করেন মোঃ শামীনূর রহমান শামীম রানা। এতে প্রধান অতিথির পক্ষে ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ তছলিম আহমেদ বাবুলের প্রতিনিধি হিসেবে আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উপজেলার পাঁচটি স্কুল ও মাদ্রাসার মোট ৭৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করে তুলতে তাদের মাঝে গাছের চারা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী এনাম হোসেন, বিএনপি নেতা হাসান আহমদ, হাফিজ ক্বারী মাওলানা শিহাব উদ্দিন, কবি ও সাহিত্যিক মুহসিনা খাতুন রুমি, সাবেক কাউন্সিলর দিলোয়ার হোসেন এবং সাবেক ফুটবলার মাহমুদ আলীসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও ব্যক্তিত্ব গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তারা আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। দেশ ও জাতির উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান বক্তারা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটিএম সাকির আহমদ, মুগল মিয়া, আরিফুল ইসলাম জাবেদ, জুয়েল আহমদ চৌধুরী, মাহমুদুল হাসান সুহেল, শাহান আহমদ এবং আবু সাইদসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও উপকারভোগী শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ দেলোয়ার হোসেন, যা পুরো আয়োজনকে এক আধ্যাত্মিক আবহ এনে দেয়।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে পড়াশোনার আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন