বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার খাউলিয়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা কৃষক দলের এক নেতার জমিতে দখল ও নির্মাণ কাজের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, খাউলিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া গ্রামের বাগানবাড়ি এলাকায় ৪১৯১ নম্বর দাগের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি জয়নাল আবেদিন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল খালেক হাওলাদারের মধ্যে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নাল আবেদিন দাবি করেন তার পরিবার প্রায় ৩০ বছর আগে তার পিতা ফকরুল ইসলাম জমিটি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছে। অপরদিকে আব্দুল খালেক হাওলাদার দাবি করেন, তার পরিবার ২০ বছর আগে পৃথক দাগে জমি ক্রয় করে সেখানে ভোগদখলে রয়েছে।
দুই পক্ষের বিরোধের পর বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং বাগেরহাটের দেওয়ানি আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা (মামলা নং-৪৯/২৩) চলমান রয়েছে। আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার ভোরে আব্দুল খালেক হাওলাদার তার লোকজন নিয়ে বিতর্কিত জমিতে পাকা বাউন্ডারি ও ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ সময় জয়নাল আবেদিনের পক্ষ থেকে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাধার মুখে কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এর আগেও সহিংস ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। জয়নাল আবেদিনের মা এবং স্থানীয় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য জাহানারা বেগমকে ২০২২ সালে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আরও কয়েক দফায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল খালেক হাওলাদার বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তার দাবি, তারা বৈধভাবে জমিতে কাজ করছেন এবং বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করবেন। তিনি জানান, রবিবার তিনি আদালতের শরণাপন্ন হবেন।
জয়নাল আবেদিন অভিযোগ করে বলেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে তার পরিবারের জমিতে জোরপূর্বক নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে এবং তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নিকটস্থ সন্ন্যাসী ফাঁড়ির এএসআই আবজাল হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উভয় পক্ষকেই স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। আপাতত নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এ বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে এলাকায় বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন