কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় বিজিবির একটি সফল অভিযানে ৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক সিএনজি চালককে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়, যা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওইদিন দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে খারাংখালী এলাকা থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজি টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির একপর্যায়ে বিজিবির প্রশিক্ষিত নারকোটিক্স ডগ “হেনরি”-এর সহায়তায় সিএনজিটির ব্যাটারির নিচে বিশেষভাবে লুকানো চারটি মিনি কার্টন শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে সেগুলো খুলে দেখা যায়, কালো কসটেপে মোড়ানো অবস্থায় মোট ৮,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রাখা রয়েছে। অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে মাদকগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যা থেকে বোঝা যায় পাচারকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করছে।
এ ঘটনায় সিএনজির চালক দিলদার আহমেদ (৪২)-কে আটক করা হয়। তিনি টেকনাফ উপজেলার পূর্ব মহিষখালীয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, তিনি খারাংখালী এলাকা থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে কক্সবাজারে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিজিবি আরও জানায়, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটিও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও আটক ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাদক সরবরাহকারী চক্র ও সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিজিবির এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একইসঙ্গে সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও জরুরি বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন