সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম সতর্কতা ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদারে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন-এর উদ্যোগে এবং কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত “জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প”-এর আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টায় গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় উদ্ধারকারী দলের মধ্যে এসব সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১২নং গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড রিনিউ দাতা সংস্থার অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড অ্যাডমিন স্নিগ্ধা রায়, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার স্বাগতা চিসিম, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, ইউপি সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন, মো. হাবিবুল্লাহ বাহার, ইমাম হাসান, জিএম নজরুল ইসলামসহ অনেকে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে ফেইথ ইন এ্যাকশন-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার মিল্টন বাড়ৈ, হিসাবরক্ষক লরেন্স ঢালী, প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাসসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, গাবুরা ইউনিয়ন একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় আগাম প্রস্তুতি ও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সরঞ্জাম স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াবে।
উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, “ফেইথ ইন এ্যাকশনের কার্যক্রম আগে আমার জানা ছিল না। তারা ইতোমধ্যে পানি ট্যাংক ও কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে। আজকের দুর্যোগ মোকাবিলার সরঞ্জাম অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে।”
ইউপি সদস্য ইমাম হাসান বলেন, “গাবুরা ইউনিয়ন সবসময় দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরঞ্জামগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
প্রধান অতিথি চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম বলেন, “ফেইথ ইন এ্যাকশন গাবুরার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় দেওয়া এসব সরঞ্জাম সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
আয়োজকদের তথ্যমতে, মোট ১৪ সেট সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি হ্যান্ড মাইক, ট্রাংক, করাত, কোদাল, হাতুড়ি, প্লাস, দা, ১৪০টি লাইফ জ্যাকেট, ১৪০ জোড়া গামবুট, ১৪০টি হেলমেট, ১৪০টি রেইনকোট, ২৮০টি অ্যাপ্রোন, ৩০ ফুটের ১৪টি দড়ি এবং ২৮টি টর্চ লাইট।
মন্তব্য করুন