সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ বিহার উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বার্ষিক মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসব ঘিরে উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা, কীর্তন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবটি পালিত হয়।
উৎসবের সূচনা হয় সকাল ছয়টায় উদ্বোধন ও নগর পরিক্রমার মাধ্যমে। ভক্তরা ভোরের আলো ফুটতেই শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ভক্তিমূলক সংগীতের তালে তালে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে সকাল ৯টায় শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠে গমন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভক্তরা ঐতিহ্যবাহী রীতিতে শ্রীকৃষ্ণের লীলার প্রতীকী উপস্থাপনা করেন।
বিকাল চারটায় অনুষ্ঠিত হয় গোষ্ঠ বিহারের অন্যতম আকর্ষণ ‘ফেরা গোষ্ঠ’। এ সময় মাঠে গরু নিয়ে প্রতীকীভাবে গোষ্ঠে ফেরার দৃশ্য উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগের সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় লীলা সংকীর্তন ও মনোমুগ্ধকর নৃত্যানুষ্ঠান, যা উৎসবের সৌন্দর্যকে আরও বর্ণিল করে তোলে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও পৌর শহরের যাত্রাপাশা মঙ্গল চন্ডী মন্দির প্রাঙ্গণে এই মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে এই উৎসবটি স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আহ্বায়ক আবু হোরায়রা সাদ মাস্টার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান চৌধুরী, শিক্ষানুরাগী ও সাবেক কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক সমাজসেবক এম এ কাদির, বিএনপি নেতা সুজাতুর রেজা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুধাংশু শেখর রায় বাচ্ছু, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিজন কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক বিভাষ দে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি নেতা শশী কান্ত গোপ, সাংবাদিক অমিত দেব, উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি নিবারণ গোপ, সাধারণ সম্পাদক প্রজেশ গোপ, কোষাধ্যক্ষ জীবন গোপসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, শ্রীকৃষ্ণের গোষ্ঠ বিহার শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভক্তদের জন্য ভক্তি, আনন্দ ও সামাজিক সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। ভবিষ্যতেও এই আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে উদযাপনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
মন্তব্য করুন