নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় পৃথক স্থানে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ৩৭৯৮ পিস ইয়াবাসহ আন্তঃজেলা মাদক পাচারকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও র্যাব–১১ এর সমন্বিত দল।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার তপাদার বাজার এলাকায় নোয়াখালী–লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বায়তুল আমান জামে মসজিদের সামনে এবং লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী পূর্ব বাজারে পৃথক দুটি অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়ইতলা এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. হারুন (৩৫), দিলসাতপুর এলাকার মৃত মো. রুহুল আমিনের ছেলে মো. সুমন ওরফে ইলেকট্রিক সুমন (৪৪) এবং ছিলাদি এলাকার সুলতান মুন্সিবাড়ির মোহাম্মদ দুলালের ছেলে মো. বাবুল হোসেন (২২)।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জের তপাদার বাজার এলাকায় ডিএনসি ও র্যাব সদস্যরা ক্রেতা সেজে অবস্থান নেন। এ সময় ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে উপস্থিত হলে হারুন ও সুমনকে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের মান্দারী পূর্ব বাজার এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে ৭৯৮ পিস ইয়াবাসহ বাবুল হোসেনকে আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা পূর্বে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত থাকলেও পরবর্তীতে তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। তারা মূলত চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। বিশেষ করে বাবুল হোসেন অটোরিকশা চালকের ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন ধরে খুচরা পর্যায়ে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিলেন, যা স্থানীয়দের নজরের বাইরে ছিল।
অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কাছ থেকে মোট ৩৭৯৮ পিস ইয়াবা, নগদ ২০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ জানান, এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানা ও চন্দ্রগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক পাচার ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই অভিযানের মাধ্যমে আন্তঃজেলা মাদক পাচার চক্রের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন